
ঢাকার ধামরাইয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। কনেকে বিয়ে করতে বর এসেছিলেন হেলিকপ্টারে চড়ে। তবে এই বিয়েকে ঘিরে বাল্যবিয়ের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকায় মোশারফ হোসেনের বাড়িতে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নবগ্রাম এলাকায় এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সেখানে হাজির হন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় কনের বয়স যাচাইয়ের জন্য পরিবারের কাছে জন্মনিবন্ধন দেখতে চাওয়া হলে তারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ইস্যু করা একটি সনদ দেখান।
কনের পরিবার যে জন্মনিবন্ধনটি দেখায়, সেখানে মেঘলা আক্তারের জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ২৪ আগস্ট ২০০৮ এবং নথিটি ইস্যুর তারিখ ২৫ জুন ২০২৬। তবে কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে মেঘলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ে জমা দেওয়া জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৩। সেই হিসাবে তার বর্তমান বয়স মাত্র ১৩ বছর। বিদ্যালয়ের নথির সঙ্গে পরিবারের দেখানো জন্মনিবন্ধনের তথ্যে প্রায় ৫ বছরের ব্যবধান পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচতে এবং মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণ করতেই কনের পরিবার এই ভিন্ন ও ভুয়া জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেছে। তবে কনের বাবা মোশারফ হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, "আমার মেয়ের বয়স ১৮ বছরের ওপরে।"
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-মামুন জানান, মেয়ের পরিবার ভুয়া জন্মনিবন্ধন দেখিয়ে বাল্যবিবাহ দিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বর ও কনে হেলিকপ্টারে চড়ে শরীয়তপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। ইউএনও আরও জানান, জন্মনিবন্ধনের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :