Facebook Twitter Instagram YouTube

মানসিক চাপে আব্রাহাম লিংকন রণতরীর ৫ হাজার মার্কিন সেনা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ /
মানসিক চাপে আব্রাহাম লিংকন রণতরীর ৫ হাজার মার্কিন সেনা

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় টানা প্রায় নয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। সাধারণত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ছয় মাসের জন্য মোতায়েন করা হলেও, এই জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে। দীর্ঘ এই মোতায়েনের ফলে জাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনার মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে ‘আব্রাহাম লিংকন’ থেকে ১০ হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। একই সময়ে জাহাজের সদস্যদের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার উচ্চঝুঁকির মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন উত্তপ্ত পরিবেশে কাজ করার ফলে সেনাদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জাহাজের এক নাবিকের বাবা জেফারসন কেলি জানান, যুদ্ধজাহাজগুলো বেশ পুরোনো হওয়ায় সেগুলো সচল রাখতে নাবিকদের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তার মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে সেনাদের সমুদ্রে আটকে রাখা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।

জাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে একটি চিঠি দিয়ে জাহাজে পরিষ্কার পানির সংকট, বাথরুমের অব্যবস্থাপনা এবং নাবিকদের মানসিক চাপের বিষয়ে জবাবদিহি চেয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, জাহাজে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং সেনাদের আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে ছড়ানো তথ্য সঠিক নয়। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু সরঞ্জাম ও সরবরাহ পৌঁছাতে বিলম্ব হলেও জাহাজে বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। এছাড়া সেনাদের মানসিক সহায়তার জন্য চিকিৎসক ও কাউন্সেলররা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথও জাহাজের দুরবস্থার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সামরিক কর্তৃপক্ষের এসব বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না নাবিকদের পরিবারগুলো। গত সপ্তাহে তারা নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। অনেক বাবা-মা চিঠির মাধ্যমে তাদের সন্তানদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছেন। জেফারসন কেলি এমনকি তার ছেলেকে ফিরিয়ে আনার বিনিময়ে নিজে জাহাজে গিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে, ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামে আরেকটি যুদ্ধজাহাজ ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর দায়িত্ব নিতে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh