
চলতি মাসের শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদ থেকে পদত্যাগ করছেন ক্যারোলিন লিভিট। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই পরিবর্তনের ফলে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তার অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টাকে হারাতে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিভিট ও ট্রাম্প পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর লিভিট প্রশাসনের বাইরে থেকে যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলীয় কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।
২৮ বছর বয়সী লিভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি তার ছোট সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান। গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তিনি কাজে ফিরেছিলেন। নিজের দায়িত্ব পালনকে তিনি ‘জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেওয়া লিভিট পরবর্তীতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ পান, যা তাকে এই পদে দায়িত্ব পালনকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত করে।
ক্যারোলিন লিভিটের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তিনি হোয়াইট হাউসে একজন প্রকৃত নেতার ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৮ সাল থেকে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মুক্তির পক্ষে লড়াইয়ে তার অবদান অসাধারণ। ট্রাম্প তাকে ‘হোয়াইট হাউসের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রেস সেক্রেটারি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের সাবেক প্রধান উপপ্রেস সেক্রেটারি হ্যারিসন ফিল্ডস মন্তব্য করেছেন, ক্যারোলিনের সঙ্গে খুব কম মানুষের তুলনা করা যায়। তিনি শুধু ট্রাম্পের ভাষা সাবলীলভাবে বলতে পারতেন না, বরং গণমাধ্যমকে চতুরতা, সাহসিকতা ও সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করতে জানতেন। তার কাজের ধরন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
লিভিটের দেড় বছরের দায়িত্বকালে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউংয়ের সঙ্গে মিলে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রিফিং কক্ষে ‘নিউ মিডিয়া’ নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করে, যার মাধ্যমে পডকাস্ট, নিউজলেটার ও নতুন ডিজিটাল গণমাধ্যমগুলো প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড কাভার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পায়। তবে ট্রাম্পের কিছু মিত্র এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও, মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো এর সমালোচনা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রেসিডেন্টের কাছে কোন সাংবাদিকরা প্রবেশাধিকার পাবেন তা বেছে নেওয়া শুরু করলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘প্রেস পুল’ ব্যবস্থা কার্যত বাদ পড়ে যায়।
আপনার মতামত লিখুন :