Facebook Twitter Instagram YouTube

আ.লীগ নেতার পরিবার থেকে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ডিসির বিরুদ্ধে


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ /
আ.লীগ নেতার পরিবার থেকে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ডিসির বিরুদ্ধে

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ডিসি মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল আলম জসিমের পরিবারের কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জসিম চসিকের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং প্রায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দি ছিলেন। সবকটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে আর কোনো নতুন মামলায় গ্রেফতার না করার নিশ্চয়তা চেয়ে তার পরিবার ডিসি আমিরুলকে এই অর্থ প্রদান করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও মহানগর যুব মহিলা লীগের সদস্য সোনিয়া আজাদ। জসিমের ভাই মো. আকবর হোসেন খোকন জানান, গত বছরের ৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেফতারের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানার ৩টি, চান্দগাঁও থানার ৭টি, সদরঘাট থানার ১টি, আকবরশাহ থানার ১১টিসহ ২৭টি মামলা দেওয়া হয়। জামিন লাভের পর গত ৮ জুলাই তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। ওইদিন যাতে তাকে নতুন কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো না হয়, সেজন্য পরিবার প্রথম দফায় ডিসি আমিরুলকে ১২ লাখ টাকা দেয়। তবে সেই চুক্তির পরেও কোতোয়ালি থানার একটি পুরোনো মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

পরবর্তী সময়ে জসিমের পরিবারকে কারাগার থেকে মুক্ত করার শতভাগ আশ্বাস দিলে দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫ লাখ টাকা ডিসির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই লেনদেনের সময় জসিমের স্ত্রী তাসলিমা বেগম ও মধ্যস্থতাকারী সোনিয়া আজাদ উপস্থিত ছিলেন। সোনিয়া আজাদ জানান, তার স্বামী আবু নাসের চৌধুরী আজাদও বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই দম্পতিও গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। সোনিয়ার দাবি, জসিমের বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে গিয়ে তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তার স্বামী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ডিসি মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি জানান, জসিমকে তিনি নিজেই ঢাকার বসুন্ধরা থেকে গ্রেফতার করে চালান দিয়েছিলেন এবং তাকে কারামুক্ত করার বিষয়ে কোনো তদবির বা সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সিএমপি কমিশনারের এক আদেশে আমিরুল ইসলামকে উত্তর বিভাগের ডিসি পদ থেকে সরিয়ে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক লাঞ্ছনা ও অন্যান্য বিতর্কের অভিযোগও উঠেছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor