
আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এই বৈঠক হতে পারে বলে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরই চীনে এপেক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাঁদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈঠকের আয়োজন, আলোচ্যসূচি বা আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সমঝোতা হয়নি।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের উপায় নিয়ে আলোচনা করতেই প্রেসিডেন্ট পুতিন এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পেসকভ এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা স্বীকার করেন।
তবে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নেতাদের মধ্যে এমন বৈঠকের সম্ভাবনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির আশঙ্কা, কিয়েভকে বাদ দিয়ে এ ধরনের আলোচনা হলে তা যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে বরং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করতে পারে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নেতাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হলে তা যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে সহায়তা করতে পারত। কিন্তু রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হলে এর বিপরীত ফল হতে পারে। সিবিহার মতে, এ ধরনের বৈঠক পুতিনকে ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আরও উৎসাহিত করতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :