Facebook Twitter Instagram YouTube

আদালতের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তায় হাসপাতালে নেওয়া হলো ইমরান খানকে


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ /
আদালতের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তায় হাসপাতালে নেওয়া হলো ইমরান খানকে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার দল পিটিআই এই তথ্য নিশ্চিত করলেও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

দেশের সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চের দেওয়া আদেশের পরিপেক্ষিতে ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আদালত তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের মুখোমুখি করার নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের জন্য আদালতের এই নির্দেশনাকে অন্যতম বড় একটি আইনি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবশ্য ইমরান খান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

আদালতের এই নির্দেশনায় চিকিৎসার পাশাপাশি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। তবে আদালতের এই নির্দেশনার পর গত মঙ্গলবার রাতে ইমরান খানের এক বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

ইমরান খানের আইনি দল জানিয়েছে, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। কারাগারে থাকাকালীন তিনি প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন না বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। এর আগে তার এক আইনজীবী দাবি করেছিলেন, সঠিক চিকিৎসার অভাবে ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ইমরান খানের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিমে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকেও যুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে আদালত।

এদিকে ইমরান খানের স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে তার সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের বাইরে কোনো ধরনের সংবাদ সম্মেলন না করার জন্য পিটিআই নেতৃত্বকে সতর্ক করেছে আদালত।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগসহ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া গত বছরের শেষ দিকে একটি পৃথক মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার এই দীর্ঘ কারাবাসকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে তার সমর্থকরা বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh