Facebook Twitter Instagram YouTube

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানি সংকট নিরসনে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেল


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ /
চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানি সংকট নিরসনে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেল

চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসন এবং নগরবাসীর জনদুর্ভোগ কমাতে নতুন এক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পতেঙ্গা এলাকার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সরকার একা সব মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না, তাই এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মডেলে সরকার ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি এনজিওগুলোও সহযোগিতা করবে।

চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে। তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই চুক্তির সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগটিতে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

অনুষ্ঠানে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন ইসরাফিল খসরু। চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই দুটি ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানি প্রাপ্তির সুযোগ খুবই সীমিত। এখানকার মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে ওয়াসার পাইপলাইন পৌঁছেছে। অধিকাংশ বাসিন্দাকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কেনার জন্য ২৫ থেকে ৫০ টাকা ব্যয় করতে হয়। এছাড়া স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএম-এর বিপরীতে ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র পানির সংকট নয়, বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা নিয়েও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের পুরো অর্থনীতি মডেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin