
ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা ফয়সাল শেখ (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আইয়ুব আলী সরদারের ছেলে চাঁন সরদার (৪২) ও তারা সরদার (৩৫) এবং জিয়াউল হক আকন্দের ছেলে বাবুল আকন্দ (৩৬)।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত বাবুল আকন্দ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি চাঁন সরদার ও তারা সরদার পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আকু শেখের ছেলে এবং শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সবজি বিক্রি করতেন। এছাড়া তিনি চাঁন সরদারের আড়তে শ্রমিকের কাজও করতেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় চাঁন সরদার, তারা সরদার ও শাহিন সরদারের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি চাঁন সরদারের সঙ্গে ফয়সালের মনোমালিন্য ছিল। ঘটনার দিন দুপুরে চাঁন সরদার কৌশলে ফয়সালকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অন্যান্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে বাবুল আকন্দের নামও তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়। বিচার চলাকালীন শাহিন সরদার নামে এজাহারভুক্ত এক আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :