Facebook Twitter Instagram YouTube

খিলক্ষেতে গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ /
খিলক্ষেতে গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা মুক্তা ইসলামকে নির্যাতনের একটি ভয়াবহ ভিডিও তার ভাই তানভীর রহমানের মোবাইল ফোনে পাঠিয়েছিলেন স্বামী সোহেল শিকদার। ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তার পায়ে শিকল বাঁধা এবং তাকে একটি খাটের সঙ্গে বেঁধে চামড়ার বেল্ট দিয়ে একের পর এক আঘাত করা হচ্ছে। নির্যাতনের সময় নির্যাতনের শিকার মুক্তা তাকে বলতে শোনা যায়, 'আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।' ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পাশে থাকা দুই শিশু সন্তান কান্না করছে, যার প্রেক্ষিতে মুক্তা তার স্বামীকে অনুরোধ করেছিলেন, 'আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।'

ভিডিওটি পাঠানোর দুই দিন পর গত বৃহস্পতিবার খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর মুক্তাকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর মুক্তার ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মুক্তার স্বামী সোহেল শিকদারসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল শিকদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর সোহেল শিকদার ভিডিওটি পাঠিয়ে তার শ্যালককে বলেছিলেন, 'তোমার বোনকে নিয়ে যাও।' গ্রেপ্তারের পর সোহেলের মোবাইল ফোনেও নির্যাতনের ভিডিওটি পাওয়া গেছে। খিলক্ষেত থানার ওসি সোহরাব আল হোসাইন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করলেও মৃত্যুর দিন মারধর করেননি বলে দাবি করেছেন। সোহেলের ভাষ্যমতে, গলায় ফাঁস নেওয়ার দুই দিন আগেই তিনি স্ত্রীকে মারধর করেছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সোহেল যৌতুকের জন্য এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে মুক্তাকে নির্যাতন করতেন। কয়েক মাস আগে সোহেল মুক্তার ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেছিলেন, যা দিতে দেরি হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। বরিশালের বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা মুক্তা ও সোহেল পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর তারা খিলক্ষেতে বসবাস করতেন। সোহেল প্রথমে মুদি দোকান করলেও পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায় লোকসানের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor