চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হেনেছে ৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৬ জন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ভূমিকম্পের ফলে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে একটি পার্বত্য এলাকায়। এলাকাটি আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ৩০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভূমিকম্পের সময় মানুষের আতঙ্কিত ছোটাছুটি, রেস্তোরাঁ থেকে কর্মীদের দ্রুত বেরিয়ে আসা এবং সুপারমার্কেটের তাক থেকে জিনিসপত্র মেঝেতে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পর এই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটল। গত আগস্টে ওই বন্যার উৎপত্তি হয়েছিল নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে, যা পরে নেপালের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বহু ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
এদিকে, চীনের অন্য একটি এলাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রাত ৮টা ২৯ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল অরুণাচল প্রদেশের পাঙ্গিনের প্রায় ৫০৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে।
আপনার মতামত লিখুন :