Facebook Twitter Instagram YouTube

অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সরকারের প্রতি জ্যোতি রহমানের আহ্বান


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ / ০
অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সরকারের প্রতি জ্যোতি রহমানের আহ্বান

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্দা এবং ব্যাংকিং খাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পানাম ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান দেশের এই পরিস্থিতিকে ‘অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক কাউন্টারপয়েন্ট-এ প্রকাশিত ‘এ স্টেট অব ইকোনমিক ইমার্জেন্সি’ শীর্ষক নিবন্ধে তিনি সরকারকে এই সংকটের ভয়াবহতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল বিনিয়োগ, স্থবির প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চক্রে আটকা পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসেও বাংলাদেশের অর্থনীতির অবনতির চিত্র স্পষ্ট। আইএমএফ ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করেছে। সংস্থাটির মতে, ২০৩১ অর্থবছরের আগে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নামার সম্ভাবনা নেই। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ পরিস্থিতির অবস্থাও উদ্বেগজনক। ২০২৬ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ ০ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে এবং ২০২৭ ও ২০২৮ অর্থবছরে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে মাত্র ০ দশমিক ৩ ও ১ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দারিদ্র্য পরিস্থিতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৮ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

সরকারের রাজস্ব আয় নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি দশকের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আয় জিডিপির ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যা আগে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হলেও ২০৩১ অর্থবছরে তা প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও ধারাবাহিকভাবে কমানো হচ্ছে। আইএমএফ ২০২৭ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০২৮ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। বিশ্বব্যাংকও ২০২৭ ও ২০২৮ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

জ্যোতি রহমানের মতে, এই সংকটের পেছনে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দায়ী নয়; বরং দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংকট, বিনিয়োগ হ্রাস এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বড় বাধা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং প্রকৃত মজুরি হ্রাসের পাশাপাশি শ্রমবাজারে অংশগ্রহণও কমেছে। তিনি ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, সতর্ক রাজস্বনীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা, ভর্তুকি সংস্কার এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার সুপারিশ করেছেন। তিনি সরকারকে অর্থনৈতিক সংকটের ব্যাপকতা প্রকাশ্যে স্বীকার করা, ব্যাংকিং খাতের ক্ষতির হিসাব প্রকাশ এবং ব্যয়সংকোচন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor