Facebook Twitter Instagram YouTube

কুড়িগ্রামে সারের সংকটে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিলেন কৃষকেরা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৩, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ /
কুড়িগ্রামে সারের সংকটে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিলেন কৃষকেরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে সারের তীব্র সংকটের জেরে কৃষকেরা এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে সার ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের অনুরোধে ৩৩ জন কৃষক বর্তমানে ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের জন্য তৎপরতা চলছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার সরবরাহের জন্য তিলাই ইউনিয়নের ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্সের’ অনুকূলে ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। চলতি আমন মৌসুমের জন্য ডিলার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করে গুদামে রেখেছিলেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, বারবার ডিলারের কাছে গিয়েও তাঁরা সার পাননি, অথচ খোলাবাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে, যার ফলে আজ সকালে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, উপজেলায় সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা হলেও বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ১ হাজার ৩২০ বস্তা। ডিলার কর্তৃক সার উত্তোলন কম হওয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে সার না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওসি আরও জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এখন পর্যন্ত ৩৩ বস্তা সার ফেরত পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার জানান, ওই ডিলারের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা সার কৃষকেরা নিয়ে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় অনেকগুলো বস্তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo