Facebook Twitter Instagram YouTube

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালু: ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ, উচ্ছ্বসিত কর্মীরা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৩, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ /
মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চালু: ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ, উচ্ছ্বসিত কর্মীরা

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় চালু হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই খবরে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মী ও জনশক্তি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

এবারের কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সির মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী এজেন্সি বেছে নিতে পারবে। মাত্র ৬ হাজার টাকা ফি দিয়ে যেকোনো অনুমোদিত এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে। এছাড়া সরকারের অনুমোদনক্রমে প্রাথমিকভাবে ৩১২টি এজেন্সি ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং বাকি এজেন্সিগুলোকেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ২৫টি এজেন্সির যেকোনো একটির অনুমোদন সাপেক্ষে যেকোনো লাইসেন্সের অধীনে বিএমইটির (BMET) ছাড়পত্র নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এই বাজারটি চালুর উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান, যা শ্রমবাজার খোলার পথ সুগম করে। এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বায়রাভুক্ত সব এজেন্সি যাতে কাজ পায় সেজন্য সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং শ্রমিকরা যাতে স্বল্প খরচে ও নিরাপদে মালয়েশিয়া যেতে পারেন তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। এরপর ১ জুন থেকে নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে দেয় দেশটি। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার এফডব্লিউসিএমএস ২৫টি এজেন্সির পাশাপাশি ৪০টি মেডিকেল সেন্টারের তালিকাও প্রকাশ করেছে। নতুন করে কলিং ভিসা চালুর খবরে পাবনার চাটমোহরের পারভেস আলম এবং নোয়াখালীর চাটখিলের মহিউদ্দিন রিংকুসহ অনেক গমনেচ্ছু কর্মী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ঢাকার নয়াপল্টনের ম্যানপাওয়ার ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন জানান, সৌদি আরবের পর মালয়েশিয়াই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মী নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে ন্যূনতম ১৭০০ রিঙ্গিত বেতন ও ওভারটাইমের সুবিধা রয়েছে। কাকরাইলের ব্যবসায়ী শফি উদ্দিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাজার সংকুচিত হওয়ার এই সময়ে মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে একটি অসাধু চক্র যারা অবৈধ উপায়ে লোক পাচার করত, তারা এই বৈধ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এদের কঠোর হস্তে দমন করা উচিত।

এফডব্লিউসিএমএসের প্রকাশিত তালিকায় থাকা ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি হলো: বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান रिसোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, khan জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor