Facebook Twitter Instagram YouTube

বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, পানিবন্দী লাখো পরিবার


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ / ০
বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, পানিবন্দী লাখো পরিবার

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দুপুর পর্যন্ত ৫৯টি উপজেলার প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ জন কক্সবাজারে মারা গেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।

গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি নির্ভর করছে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের মতো জনপদগুলোতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট ও যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বাঁশখালীর শেলী আক্তার জানান, পাঁচ দিন ধরে মাটির ঘরের মেঝে ডুবে থাকায় তক্তা ও ঝুড়ির মাচায় কোনোমতে দিন কাটছে তার ছয় সন্তানের। একইভাবে মো. ফারুকের মতো অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, ফসল নষ্ট হয়েছে এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী ও রামুর বিস্তীর্ণ এলাকাও এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin