Facebook Twitter Instagram YouTube

দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ / ০
দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত

দেশজুড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল, স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই সরবরাহের পরিমাণ থাকে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় বর্তমানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও বর্তমানে নিম্নমুখী। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫-৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা কমে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এটি কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, তার সুনির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, পুরোনো গ্যাসকূপগুলো থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না এবং এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১০ দশমিক ৬০ ডলার, যা বর্তমানে ২১ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। এতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, এই সংকট দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অভাবের প্রতিফলন। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস রাজধানী অঞ্চলে সরবরাহের জন্য ক্রায়োজেনিক আইএসও ট্যাংক ব্যবহারের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, ফলে শিল্প ও আবাসিক খাতের চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত কাটানোর সম্ভাবনা আপাতত সীমিত।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din