
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে সিরাজগঞ্জ। সন্ধ্যা নামতেই যেন আলোর মায়াবী চাদরে ঢেকে যায় পুরো শহর। সড়কের দুপাশে নানা রঙের ঝলমলে বাতি, মন্দিরে মন্দিরে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা আর ঢাক-ঢোলের ছন্দে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। আলোর ঝলকানি এবং পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার অপরূপ প্রতিমা সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জকে এক বর্ণিল উৎসবের নগরীতে পরিণত করেছে।
শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, বিপণি বিতান থেকে পূজামণ্ডপ পর্যন্ত সবখানেই এখন উৎসবের ছোঁয়া। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই জ্বলে উঠছে রঙিন আলোকসজ্জা, যা শহরের পরিচিত পথঘাটকে নতুন রূপে তুলে ধরছে। এই আলোকসজ্জা উপভোগ করতে সন্ধ্যার পর থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বের হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, আশপাশের এলাকা থেকেও ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা উৎসবের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
উৎসবের এই আনন্দঘন মুহূর্তে দর্শনার্থীরা কেউ পরিবারের সঙ্গে সেলফি তুলছেন, কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন স্মৃতিময় মুহূর্ত, আবার কেউ ব্যস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করতে। শিশুদের উচ্ছ্বাস, তরুণ-তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্য আর বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে উৎসবের হাসি সব মিলিয়ে সন্ধ্যার পর শহরের রাস্তাঘাট ও পূজামণ্ডপগুলো মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে। ফুচকা ও ঝালমুড়ির মতো পথের খাবারের দোকানগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে মন্দিরে মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও পূজা-অর্চনা। মৃন্ময়ী প্রতিমা সেজেছে চিন্ময়ী রূপে, যার শৈল্পিক নির্মাণ, রঙের বৈচিত্র্য আর মণ্ডপের নান্দনিক সাজসজ্জা মুগ্ধ করছে সবাইকে। ঢাকের বাদ্য, কাঁসার শব্দ, ফুল-ফল ও নানা নৈবেদ্যে দেবীর আরাধনায় মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সম্প্রীতির মিলন। দুর্গোৎসব এখন সিরাজগঞ্জের মানুষের কাছে শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আনন্দ, সৌহার্দ্য ও মিলনেরও এক বিশেষ উপলক্ষ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উপভোগ করছেন উৎসবের আমেজ।
জেলা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যে পূজামণ্ডপের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও, সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলাজুড়ে এবছর ৫৫৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :