Facebook Twitter Instagram YouTube

গ্যাস সরবরাহ বন্ধে ঢাকায় লোডশেডিং, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৩, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ /
গ্যাস সরবরাহ বন্ধে ঢাকায় লোডশেডিং, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট

গত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সরবরাহ ছিল ১০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় এই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়, যা গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং সংকট বাড়িয়ে তোলে। এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে, যার প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। একটি বয়লার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে, তবে এর সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, যার মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১০৫ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে এলএনজি থেকে সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসায় মোট গ্যাসের সরবরাহ ১৯৩ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে, যা গতকাল ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। এতে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা হিমশিম খাচ্ছে। বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের দিনে চাহিদা ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে তারা ১৫৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ পেলেও এলএনজি সংকট শুরুর পর তা ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গত দুই দিন তারা ১০০ কোটি ঘনফুট করে পাচ্ছিল, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে ঢাকাতেও সহনীয় লোডশেডিং শুরু করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে শনিবার দুপুরের পর থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। ডিপিডিসি ও ডেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১১টা থেকে ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী, রাজাবাজার, লালমাটিয়া ও মণিপুরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেছেন। ডিপিডিসির একজন কর্মকর্তা জানান, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট এবং দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং না রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার বিপণিবিতান ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo