
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই, করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং আইন অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কমিটি ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪০৪ জন শিক্ষক একটি গোপন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এই কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলকে পুনরায় সক্রিয় করা। ওই প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫৮ জনকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, গঠিত তদন্ত কমিটি শনাক্ত হওয়া এই ৫৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে। এছাড়া তদন্ত চলাকালে নতুন কোনো শিক্ষকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং তৎকালীন শাসনব্যবস্থাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগে একাধিক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনেক শিক্ষক বর্তমানে বয়কটের মুখে রয়েছেন। নতুন এই কমিটি অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের সুপারিশ পেশ করবে।
আপনার মতামত লিখুন :