Facebook Twitter Instagram YouTube

ভল্টের ৪ কোটি টাকা সরিয়ে গরুর খামারে বিনিয়োগ, ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ গ্রেফতার ২


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৩, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ /
ভল্টের ৪ কোটি টাকা সরিয়ে গরুর খামারে বিনিয়োগ, ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ গ্রেফতার ২

চট্টগ্রামের অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে একটি গরুর খামারে বিনিয়োগের অভিযোগে ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের লালদীঘিপাড় জেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লিমিটেডের করপোরেট শাখায়। এই জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন (৪১) ও তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) আসামি করার পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভোল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় এই বিপুল পরিমাণ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। কাগজে-কলমে যে পরিমাণ টাকা থাকার কথা ছিল, বাস্তবে ভল্ট গণনা করে দেখা যায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম রয়েছে। সে সময় ক্যাশ ও ভোল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পরবর্তীতে তদন্তে ভল্টের টাকার বান্ডিলগুলোতে অভিনব কারসাজির চিত্র উঠে আসে। দেখা যায়, এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে বেশির ভাগই ছিল একশ টাকার নোট। বাইরে থেকে এক হাজার টাকার নোট দেখে হিসাব মেলানো হলেও বাস্তবে ভেতরে টাকা কম ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল স্বীকার করেন যে, তিনি এই টাকা তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামারে বিনিয়োগ করেছেন। ওই খামারে বর্তমানে উন্নত জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে এই ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের লেনদেন শেষে ক্যাশ ও ভোল্টের হিসাব মেলানোর কথা থাকলেও, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ঘাটতি কেন আগে ধরা পড়েনি—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কোনো অবহেলা বা দায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংক ম্যানেজারের মামলার ভিত্তিতে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি আইফোনসহ দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তারা কীভাবে এই টাকা সরালেন এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে গ্রেফতার জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ দাবি করেছেন, তার ছেলে নির্দোষ এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor