
ফরিদপুর ও বরিশালে ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুটি এমআরআই মেশিন গত ৯ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়টি সামনে এনেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিটি মেশিনের প্রকৃত দাম সাড়ে ১১ কোটি টাকা হলেও তা কেনা হয়েছে অনেক বেশি দামে এবং প্রতিটি মেশিন থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা চুরি করা হয়েছে। টেকনিশিয়ান বা প্রয়োজনীয় জনবল না থাকা সত্ত্বেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এসব যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রেখেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার নামে এভাবে কয়েক লাখ কোটি টাকা লুটপাট করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার এবং এখন এসব মেশিন ভাঙ্গারির কাছে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত এবং যারা এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদক কারবারিদের জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর পুনরায় অপরাধে জড়ালে তাদের আবার গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া বিদ্যুৎ, সার, গ্যাস ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মানিকগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে যাতে কাউকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, সরঞ্জাম ও জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। সভায় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জের উন্নয়নে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং জেলা বিএনপিতে কোনো কোন্দলে না জড়ানোর পরামর্শ দেন। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর ও প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্তসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন :