
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশের মধ্যে টানা ১৪তম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, এটি চলমান দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়ার অংশ। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌচলাচলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত এবং নির্বিঘ্ন রাখা উচিত। ওমান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক বিরোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ওমানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পরিচালনার যে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যেই শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের ঘাঁটিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন বিধ্বস্তের ঘটনায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারেও হামলা চালিয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছিল। একই সঙ্গে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় পরিস্থিতির নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। হুথিরা হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যদিও তারা কোনো নৌপথ পুরোপুরি বন্ধের দাবি অস্বীকার করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :