Facebook Twitter Instagram YouTube

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ /
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত-সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে প্রবল আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালের এই দুর্যোগে রাস্তাঘাট, সেতু এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, বুধবার রসুয়া জেলায় বন্যার পর ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশি পর্যটকদের তালিকায় অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়াও নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ বাকি ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের অনেকেই তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রী ছিলেন।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে গিয়েছিল। লেন্দে নদীর উপনদী ভোতেকোশিতে এই বন্যার মূল কারণ হিসেবে এটিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে ভোতেকোশি নদীর পানি দুই কূল উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করলে বেশ কয়েকটি গ্রাম বিধ্বস্ত হয়। একই সময়ে তিব্বতের জিরং বন্দরেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সেখানেও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রসুয়া জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া হেলিকপ্টারগুলো স্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে এলাকায় অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়ে কাঠমান্ডুতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। নেপাল সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখরেল জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা প্রদানের জন্য ভারত ও চীন উভয় দেশের কাছেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া আরও ১০ জন কর্মী সেখানে আটকা পড়েছেন, যাদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষ ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক ‘টাচ কৈলাস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বসু কুমার অধিকারী জানান, ৯৩ জন নেপালিসহ মোট ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর ওই সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh