Facebook Twitter Instagram YouTube

পিইটি ফিল্ম রপ্তানিতে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্তের মুখে বাংলাদেশ


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ /
পিইটি ফিল্ম রপ্তানিতে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্তের মুখে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারত। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী ও শিল্পপণ্যের মোড়ক তৈরিতে ব্যবহৃত এই পণ্যের ওপর তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী ৬ আগস্ট ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে একটি মৌখিক শুনানির আয়োজন করেছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (ডিজিটিআর)। ডিজিটিআর ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সংস্থা, যারা ১৩ জুলাই এক চিঠির মাধ্যমে এই শুনানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পিইটি ফিল্মের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ডাম্পিং মূল্যে পণ্যটি ভারতে আসায় তাদের নিজস্ব শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাই এর ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন। অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক হলো এমন একটি অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, যা কোনো দেশ তখন আরোপ করে যখন কর্তৃপক্ষের ধারণা হয় যে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের দেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুনানিতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতের আবেদনকারী তিন প্রতিষ্ঠান—চিরিপাল পলি ফিল্মস লিমিটেড, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া লিমিটেডকে পক্ষ করা হয়েছে। শুনানিতে অংশ নিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিষ্ঠানের নাম, দেশের কোড, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা আইনজীবীদের পরিচয় আগেভাগে জমা দিতে হবে। শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্য পরবর্তীতে লিখিত আকারেও দাখিল করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পিইটি ফিল্ম বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য এবং ভারত এর অন্যতম বড় বাজার। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি। বর্তমান শুনানির উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণ করা। মৌখিক শুনানির পর লিখিত বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ভারত সরকার শুল্ক আরোপ করতে পারে অথবা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পেলে তদন্ত শেষ করে দিতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গত সোমবার প্রথম আলোকে জানান, সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে এবং ভারত সরকারকে এই শুল্ক আরোপ না করার অনুরোধ জানাবে। আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের অন্যতম কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীন জানান, তাঁদের রপ্তানি বাজারভিত্তিক এবং কোনো ডাম্পিং হয়নি; তাঁরা শুনানিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করা আকিজ বশির গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানটি ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত কারখানায় পিইটি ফিল্ম তৈরি করে। কোম্পানিটির দাবি, তারা বছরে প্রায় ১০ হাজার টন পিইটি ফিল্ম রপ্তানি করে এবং যাত্রার সময় তাদের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৪২ হাজার টনের বেশি।

ভারতভিত্তিক বেসরকারি বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওরিয়ন মার্কেট রিসার্চের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক পিইটি ফিল্মের বাজারের আকার এখন প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হতে পারে। উল্লেখ্য, এটি বাংলাদেশের পণ্যের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত নয়। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বহাল রয়েছে এবং সম্প্রতি এর পর্যালোচনা শেষে নতুনভাবে শুল্ক বহালের সুপারিশ করেছে ডিজিটিআর। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া হাইড্রোজেন পারক্সাইডের ওপরও ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর রয়েছে। অতীতে রহিমআফরোজের ব্যাটারি, ফ্লোট গ্লাস ও ফিশিং নেটের বিরুদ্ধেও ভারত অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকটের বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের পক্ষে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য রপ্তানি করা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, রহিমআফরোজের ব্যাটারির ক্ষেত্রে যেমন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাঠামোয় আলোচনার মাধ্যমে ভারত অভিযোগ তুলে নিয়েছিল, এক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ডব্লিউটিওর কাছে যাওয়ার উদাহরণ তৈরি করতে পারলে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo