
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্থাপিত হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক বা 'ইয়োলো লাইন' ক্রমাগত ভূখণ্ডের ভেতরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারের সীমানা নির্দেশক হিসেবে ব্লকগুলো বসানো হয়েছিল, তবে বর্তমানে এগুলো কার্যত একটি অগ্রসরমাণ ফ্রন্টলাইনে রূপ নিয়েছে। এই সীমানা যত পশ্চিমের দিকে এগোচ্ছে, গাজায় প্রাণহানির সংখ্যাও তত বাড়ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়াবলি সমন্বয়কারী কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাস নাগাদ এই নিয়ন্ত্রণসীমা গাজার মোট ভূখণ্ডের ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে, যা বছরের শুরুতে ছিল ৫৩ শতাংশ। অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় তিন হাজার ৭৯৫ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এই লঙ্ঘনের ঘটনায় এক হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে অগ্রসরমাণ সীমানার কাছাকাছি এলাকায়।
জেইতুন এবং ডিআর আল-বালাহ এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ড্রোন ও ড্রেজারের সাহায্যে রাতারাতি কংক্রিটের ব্লকগুলো কয়েকশ মিটার পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর অবরুদ্ধ বলয়ের ভেতরে চলে যাচ্ছে। জেইতুন অঞ্চলের বহু পরিবার এখন সীমান্ত ব্লক থেকে মাত্র ৭০ মিটার দূরে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু খাটিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সীমানা কাছাকাছি চলে আসায় প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলি ও বিমান হামলার শিকার হতে হচ্ছে তাদের, অথচ বাসিন্দাদের অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই।
উত্তর গাজায় এই সীমানা প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এর ফলে পুরো গাজা সিটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পৌরসেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় প্রধান প্রধান পানির কূপ, পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে গাজা সিটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় পানি ও অন্যান্য জরুরি সেবা পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :