Facebook Twitter Instagram YouTube

লালপুরে শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে সচেতনতামূলক সভা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ /
লালপুরে শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

শিশুদের আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিয়ে নাটোরের লালপুরে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৭টায় লালপুর উপজেলার মাহরাজপুর জেনাস তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা চত্বরে এই সভার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেনাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (জিএসডিও)।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুস সালাম। সভায় বক্তারা বলেন, একটি সুন্দর ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, শিষ্টাচার এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়ায় পরিবারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ব্যক্তিদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বক্তব্য প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন, জিএসডিও পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মহারাজপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আরিফুল ইসলাম এবং রামকৃষ্ণপুর জেনাস তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শৈয়ব।

আলোচনায় উঠে আসে যে, শিশুর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো তার পরিবার এবং মাতা-পিতা হলেন প্রথম শিক্ষক। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সন্তানকে শিক্ষিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং ইসলামী শিক্ষা, নামাজের প্রতি আগ্রহ, সত্যবাদিতা, বড়দের প্রতি সম্মান এবং ছোটদের প্রতি স্নেহশীল হওয়ার মতো মানবিক গুণাবলি তাদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে।

লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন বলেন, শিশুরা আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাদের হাতে শুধু বই তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তিনি আরও বলেন, শিশুরা উপদেশের চেয়ে বাবা-মায়ের কাজ ও আচরণ থেকেই বেশি শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই পরিবারে বাবা-মায়ের নিজেদের আচরণও সন্তানের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত।

জিএসডিও পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিশুদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত তদারকি থাকলে শিশুরা সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

সভায় সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশুদের ইসলামী ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে পরিবার, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় স্থানীয় মুসল্লি, অভিভাবক, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin