Facebook Twitter Instagram YouTube

নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫৮৪, নিখোঁজ ২,৪৮২


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ /
নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫৮৪, নিখোঁজ ২,৪৮২

নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৮২ জন।

নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির উত্তরের বাগমতী প্রদেশে বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। একই দুর্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চীনের তিব্বতের শিগাৎসে প্রদেশের গিরং জেলায় ভূমিধসে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নিহতের সংখ্যা ৩৬২ থেকে বেড়ে ৫৮৪ হয়েছে। বন্যাকবলিত নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর সময় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।

নেপালেই নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৪ জনে। তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮ জনকে নিয়ে দুই দেশে মোট নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে কাজ করা দক্ষিণ কোরিয়ার নয় নাগরিকেরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত সহায়তা বা দক্ষতার জন্য বিদেশি সহযোগিতা চাওয়া হবে।

এদিকে নেপালের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে শতাধিক মানুষ আটকা পড়েছেন। বন্যায় কাদার পুরু স্তরে পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও প্রায় ৩৫০ শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নেপালের উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় ১৪ হাজার ৮০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া হেলিকপ্টারে আরও ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে উদ্ধারকাজের মধ্যেই নতুন করে বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা পানি থেকে তৈরি হ্রদটি উপচে পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায় নেপাল ও চীনের কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের স্তর ধসে এ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার প্রশস্ত একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ভেঙে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকলে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din