
ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অচিরেই ক্ষমতাচ্যুত হবেন বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকারের পতন ঘটার পরেই দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সংসদের সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে 'ইন্ডি' জোটের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে রাহুল গান্ধী দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কেবল একজন নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর চেয়ে অনেক বেশি বড় ও গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো জরুরি।
বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী জানান, গত কয়েকদিনে বিরোধী দলগুলো যেভাবে একজোট হয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতে মোদি সরকারের ভিত কেঁপে উঠেছে এবং তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া একটি বার্তায় নিজের বক্তব্য আবারও স্পষ্ট করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি লেখেন, জ্ঞানেশ কুমার যাবেন, এই সরকারও যাবে, আর তারপরই শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ। এই আন্দোলনকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, বিরোধীরা যদি এই রাজনৈতিক গতি ও চাপ বজায় রাখতে পারে, তবে মোদি সরকারের পতন অনিবার্য।
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে মতপার্থক্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তাদের সব নির্দেশই সম্পূর্ণ আইনসম্মত, তবুও এই ইস্যুতে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলো মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
আপনার মতামত লিখুন :