Facebook Twitter Instagram YouTube

দুর্গাপূজায় প্রশংসা পেলেন তারেক রহমান, সামনে কঠিন ৩ পরীক্ষা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ / ০
দুর্গাপূজায় প্রশংসা পেলেন তারেক রহমান, সামনে কঠিন ৩ পরীক্ষা

বাংলাদেশে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজার আয়োজনের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার অধীনে প্রথম দুর্গাপূজা। তবে এই সাফল্য ধরে রাখা তার জন্য সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সামনে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর চাপ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশেও দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দুদের অন্যতম প্রধান উৎসব। মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিনের এই আয়োজনের সঙ্গে কোটি মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িত। উৎসবের আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারি সহযোগিতার কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশংসা পেয়েছেন। এমনকি তার রাজনৈতিক বিরোধীদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ উৎসবের আয়োজনের প্রশংসা করেছেন।

এ বছর বাংলাদেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ছিল ২৫৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দেড় হাজার মণ্ডপ বেড়েছে। উৎসব ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশজুড়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ সদস্যকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি মণ্ডপে আটজন এবং অন্য মণ্ডপগুলোতে ছয়জন করে সদস্য মোতায়েন করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আরও ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এছাড়া, সীমান্তবর্তী আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৮টি বেইস ক্যাম্প স্থাপন করে এবং টহল জোরদার করে।

সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা কার্যত টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও মফস্বলে পূজামণ্ডপের বর্ণাঢ্য আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।

ইনফ্লুয়েন্সার ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান লিখেছেন, বাংলাদেশে দুর্গাপূজা এত জাঁকজমক ও প্রাণবন্তভাবে উদ্যাপিত হতে তিনি আগে কখনো দেখেননি। ডেইলি ওয়াদার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের দুর্গাপূজার আয়োজনের প্রশংসা করেছেন লেখক, অধিকারকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। তাদের মতে, বিএনপি সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় হিন্দু সম্প্রদায় বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পেরেছে। লেখক ও অধিকারকর্মী সাদিকুর রহমান খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং লেখক ফাহাম আবদুস সালাম উৎসবের প্রশংসা করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, আগের বছরগুলোতে উৎসব ঘিরে যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ ছিল, এবারের আয়োজন তার থেকে আলাদা। কলকাতার সাংবাদিক, ইনফ্লুয়েন্সার ও টেলিভিশন উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের প্রশংসাও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে তিনি নিয়মিত সরব ছিলেন। এবার ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘এ বছর বাংলাদেশে দুর্গাপূজা ছিল অসাধারণ। বাংলাদেশকে অভিনন্দন। চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপের জাঁকজমক দেখে আমি বিস্মিত। কলকাতার পূজামণ্ডপগুলোকে যারা পুরস্কার দেয়, তাদের চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলোর জন্য আলাদা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত। কুরিয়ারে ট্রফি পাঠিয়ে দিন।’

তবে দুর্গাপূজার আয়োজন তারেক রহমান সরকারের জন্য প্রশংসা বয়ে আনলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। উৎসব শুরুর আগে চলতি মাসে দেশজুড়ে পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতার অন্তত ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি। সংগঠন দুটি সারা বছর ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশের হিন্দু অধিকারকর্মী জয়ন্ত কর্মকার দ্য প্রিন্ট-কে বলেন, গ্রামপর্যায়ে হুজুর ও অন্যান্য ইসলামপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের কেউ কেউ এ বছরও প্রতিমা পূজার বিরোধিতা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা একে ‘হারাম’ আখ্যা দিয়ে মুসলমানদের দুর্গাপূজার আয়োজনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জয়ন্ত কর্মকার আরও বলেন, ‘তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজা মাঠপর্যায়ে হিন্দুদের বাস্তব পরিস্থিতি বদলে দেয় না। হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ইসলামপন্থী বক্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin