
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম (10 September 2026, 02:39 PM)
ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার অসন্তুষ্টির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে তিনি দেশটিতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার আয়োজক দেশ ভারত।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে, বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। এই আমন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় ঢাকা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্র না হলেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এই সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও এই আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে কি না—এমন গুঞ্জনের জবাবে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সাথে যখন এটিকে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। অবশেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার হলো।
আপনার মতামত লিখুন :