Facebook Twitter Instagram YouTube

রাবিতে ছাত্রশিবিরের মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, বিচারের দাবি


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ /
রাবিতে ছাত্রশিবিরের মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, বিচারের দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারসহ ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’–সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মতিহার থানার পুলিশ সোমবার রাতে ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসান।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে করা একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলম তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। রবিবার রাতে প্রক্টর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিযুক্ত মহসিনের পক্ষে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রক্টরের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

সোমবার দুপুরে পুনরায় আয়োজিত বৈঠকে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। এ সময় আনাসের মুঠোফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর রাকসু ভবনে গিয়ে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবের ওপর হামলা করেন, এতে নাজমুস সাকিব আহত হন।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল অবস্থান নিলে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পাঠকক্ষে আশ্রয় নেওয়া ওই শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকে মারধর করা হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও আহত হন এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেও তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন একে ‘মব সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি করেছে। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এক বিবৃতিতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে। ছাত্র মঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ায় না এনে গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে মারধরের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও মারধরের ঘটনার তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo