Facebook Twitter Instagram YouTube

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার প্রথম সড়ক সেতু নির্মাণ চূড়ান্ত পর্যায়ে


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ /
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার প্রথম সড়ক সেতু নির্মাণ চূড়ান্ত পর্যায়ে

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্তে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সড়ক সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে এই সেতুটি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে, নতুন এই সেতুটি মূলত তাদের মধ্যকার বাণিজ্য ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে।

ইউক্রেনীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ট্রুথ হাউন্ডস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মূলত উপগ্রহের নজরদারি এড়িয়ে গোপনে সামরিক রসদ এবং সেনা স্থানান্তরের কাজে ব্যবহারের জন্যই এই সেতুটি তৈরি করা হচ্ছে। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত তুমেন নদীর ওপর নির্মিত ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৭ মিটার চওড়া এই দুই লেনের সড়ক সেতুটি রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের খাসান অঞ্চলের সাথে উত্তর কোরিয়ার তুমংগাং শহরকে সরাসরি সংযুক্ত করেছে।

উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের নির্মাণ কাজ আগেই সম্পন্ন করলেও, রাশিয়ার অংশের কাস্টমস ও কোয়ারেন্টাইন তল্লাশি চৌকির কাজ কিছুটা পিছিয়ে থাকায় সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নতুন তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। প্রায় ১০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। ইউক্রেনীয় সংস্থার গবেষক নজর মিহুন জানান, রেলপথে পণ্য পরিবহন করলে উপগ্রহের মাধ্যমে সহজেই ট্রেনের বগি এবং পণ্যের ধরন শনাক্ত করা যায়। কিন্তু সাধারণ সড়কপথে ট্রাকে করে দ্রুত ও গোপনে মালামাল ওঠানামা করানো সহজ এবং সামরিক রসদ ঢেকে রাখাও সুবিধাজনক।

রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রে নিকিতিন সেতুটিকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দাবি করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও এটিকে পর্যটন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুনে ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবেই এই কৌশলগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি সতর্ক করে জানিয়েছেন, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া আরও ৩০,০০০ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কুরস্ক অঞ্চলে ১৪,০০০-এর বেশি উত্তর কোরীয় সেনা লড়াই করছে, যাদের মধ্যে অন্তত দুই হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, নতুন এই সড়ক সেতুটি কেবল পণ্য পরিবহনের নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা ও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদানের একটি নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin