Facebook Twitter Instagram YouTube

ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ‘ভালো সম্ভাবনা’ দেখছেন ট্রাম্প


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ /
ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ‘ভালো সম্ভাবনা’ দেখছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা তিন দিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো হামলা না হওয়ার মধ্যেই ট্রাম্প এই ইতিবাচক মন্তব্য করলেন। তবে তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে।

হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর টানা ১৩ রাত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত শুক্রবার থেকে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই বন্ধ রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, নতুন এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, "আমার অনেক ধৈর্য আছে। দেখা যাক কী হয়। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে।" পরে মিশিগানের এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প দাবি করেন, "তারা (ইরান) এই মুহূর্তে আমাদের সাথে একটি চুক্তি নিয়ে কথা বলছে।" তবে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই নতুন উদ্যোগ ব্যর্থ হলে তারা আবারও যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থানে ফিরে যাবেন। পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের প্রচুর গোলাবারুদ ও মাঝারি পাল্লার অস্ত্র রয়েছে। প্রয়োজনের চেয়েও বেশি মজুদ আছে আমাদের।"

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, "মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে মার্কিন পক্ষের বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না।" সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনের আচরণকে একটি "আইন অমান্যকারী মাফিয়া চক্রের" সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনা করেন তিনি।

শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনও একটি বড় জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তারা নিজেদের হাতেই রাখবে। ইতিমধ্যে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নির্ধারিত সীমানার বাইরে দিয়ে চলায় ছয়টি জাহাজ আটকে দিয়েছে। তবে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে ওমানের সঙ্গে ইরান "যৌথ নীতি ও কার্যকর পদ্ধতি" নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানানো হয়েছে। গত জুনে মাসকাট ও তেহরানের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সেবা ফি আরোপের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, যার বিরোধিতা করছে ওয়াশিংটন। ওমান তাদের জলসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিলে ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে বেশ কিছু জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। মুখপাত্র বাকাই জানান, ওমানের সঙ্গে সাম্প্রতিক এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

হামলা বন্ধের এই সাময়িক স্বস্তির মধ্যেও সোমবার সৌদি আরবে ড্রোন হামলা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের ছোড়া কয়েকটি ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল তেল স্থাপনা। কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। রিয়াদ এই হামলার পর বাগদাদকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালানো বন্ধের আহ্বান জানালে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য "গুরুতর হুমকি" বলে অভিহিত করেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের ড্রোন অনুপ্রবেশের জবাবে তারা এই তেল অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, তবে রিয়াদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডান সীমান্তের কাছে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং এগুলো কোথা থেকে এসেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রত্যক্ষ হামলা বন্ধ থাকায় বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin