
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৩০ জুলাই রাজশাহীর একটি আদালতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা আজাদ উজ জামান এই মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। এ সময় একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেত ও বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। এজাহারে আরও বলা হয়, প্রধান আসামি সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুল হাসানের মাথায় ও কপালে একাধিকবার আঘাত করেন। অন্যান্য আসামিরাও তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করলেও, হামলাকারীরা তাকে নামিয়ে পুনরায় মারধর করে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত আর সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ। এছাড়া মামলায় আরও ১৭-১৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা আজাদ উজ জামান জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি হামলার কথা জানতে পারেন এবং হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আপনার মতামত লিখুন :