
আগামী ৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে গত ২৮শে জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্তসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও (রফিক শাহরিয়ার) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নৈতিক স্খলন ও অশিক্ষকসুলভ আচরণের দায়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সভায় অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকেও সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে, যেখানে সকল অনুষদের ডিনকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা ও অর্থ ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনার জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে পরবর্তী যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :