
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশের ফলে সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আদালতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সিনিয়র আইনজীবী মো. আহসানুল করিম। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ভোটের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন। সেই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ নুরুল আমীনের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশে তখন ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে তার প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। রায় ঘোষণার দিনই গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং সন্ধ্যায় সরোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে ১৩ জুলাই নুরুল আমীন আপিল বিভাগে আবেদন করেন। তার আবেদনে যুক্তি ছিল যে, রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই আবেদনের ওপর ২৭ ও ২৮ জুলাই শুনানি শেষে বুধবার আদালত এই আদেশ প্রদান করলেন।
আপনার মতামত লিখুন :