Facebook Twitter Instagram YouTube

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে রাজনীতির মাঠে অস্থিরতা ও নতুন সমীকরণ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ /
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে রাজনীতির মাঠে অস্থিরতা ও নতুন সমীকরণ

গত সপ্তাহে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য নারীঘটিত একটি ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওর কারণে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং তার সংসদ সদস্য পদও হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই ঘটনায় দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমার দেশ পত্রিকা সাধারণত ব্যক্তিগত ও চটুল বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে না, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ায় এবং যথাযথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভিউয়ের আশায় ঝাঁপিয়ে না পড়ে পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ার জন্য পত্রিকাটিকে বিভিন্ন মহলের তির্যক মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে, যদিও পরবর্তীতে অন্যান্য অনেক পত্রিকা এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সংবাদ প্রচার করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্রভাব শুধুমাত্র জামায়াত নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি দলের মন্ত্রী ও এমপিরাও এর বাইরে নন। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের টেলিফোন কথোপকথন ভাইরাল হওয়ার ঘটনা রাজপথ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং তাকে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়েছিল। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হাঁসের মাংস খাওয়ার অভিযান নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামের পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের শেষ পাঁচ বছরে ফেসবুক ও ইউটিউব আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। জুলাই বিপ্লবের সময় মিম ও অনলাইন কনটেন্ট জনমত তৈরিতে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ভারতেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মতো প্ল্যাটফর্ম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছে, যা মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের তরুণ অভিজিৎ দীপ একটি ছোট পোস্টের মাধ্যমে জেন-জি প্রজন্মকে সংগঠিত করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পথ তৈরি করেছে। এই আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ১৬ জন মূল সংগঠক ২০১৪ সাল থেকেই ডিজিটাল অ্যাক্টিভিজমের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ার এই শক্তির পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। জবাবদিহিতার অভাব থাকায় অনেক সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়, যা নিরপরাধ ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করে। এছাড়া সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকিও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া মূলধারার গণমাধ্যমের চেয়েও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে, যা রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ ও অস্থিরতা তৈরি করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh