
আগামী আগস্ট মাসেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গত শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। যেহেতু জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী নাকি বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মতামত গুরুত্ব পাবে।
দলীয় পরিমণ্ডলে মির্জা ফখরুলের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটকালে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তিনি এগিয়ে আছেন। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও তাঁর নাম প্রস্তাব করেছেন। তবে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারে বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন আসবে। সেক্ষেত্রে তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ ছাড়ার পাশাপাশি মহাসচিবের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটিও শূন্য হবে, ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গতকাল সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠক শেষে সিইসি জানান, কমিশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সাথে পরামর্শ করেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :