
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে দলটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রতিনিধি দলে আরও থাকবেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার ও শিশির মোহাম্মদ মনির।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চাকরি ছেড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। তবে এই সুযোগ বাতিলের যে সুপারিশ ইসি করেছে, তা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে দলটি মনে করে। জামায়াতের নেতারা ইসির এই সুপারিশের পেছনে দুরভিসন্ধি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা অবৈধ হবে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সুপারিশের বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। গত ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখাসহ বেশ কিছু সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলো এখন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবিও জানানো হবে। দলটির অভিযোগ, অবসরের পর একজন চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জামায়াত এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করছে এবং কমিশনের কাছে তাদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবে।
আপনার মতামত লিখুন :