Facebook Twitter Instagram YouTube

কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যায় সাবেক আওয়ামী লীগ এমপির চার ঘনিষ্ঠজন জড়িত


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ / ০
কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যায় সাবেক আওয়ামী লীগ এমপির চার ঘনিষ্ঠজন জড়িত

ঢাকার কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়। এদের মধ্যে তিনজন সরাসরি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে অন্য এক আসামি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভোল বদলে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রত্যন্ত গ্রামের চার যুবকের নাম এই হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, ইউসুফ আলী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—নাহিদ হাসান (২১), শাফিন আহমেদ (২২), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), আলী হোসেন (৪৫), জিহাদ মোল্লা (৩০), মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও আবির হাওলাদার (২৫)। এছাড়া হাসান নামে আরেক আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তার ও পলাতক এই আসামিদের মধ্যে চারজন কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন—রাড়ীপাড়া গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে চঞ্চল মোল্লা, একই গ্রামের মৃত তমেজ আলীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ, কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত রওশন আলী মোল্লার ছেলে জিহাদ মোল্লা এবং দামোদারপুর গ্রামের বাক্কার আলীর ছেলে হাসান আলী (পলাতক)।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুবদল কর্মী ইউসুফ আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুর রহমানকে খুনি হিসেবে ভাড়া করতে মধ্যস্থতা করেছিলেন পলাতক হাসান আলী। তিনি দামোদারপুর এলাকার পরিচিত তিন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। হাসান আলী কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের কট্টর সমর্থক ছিলেন। কলকাতায় এমপি আনারের মৃত্যুর পর তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের সঙ্গেও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২২ মে ডরিনের সঙ্গে তোলা হাসান আলীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মাসুম বিল্লাহ এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি শুটার হিসেবে অংশ নেন। তিনিও আগে সাবেক এমপি আনারের কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয় দেখা গেছে। কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যুবদলের এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলনের সামনে মাসুমের দাঁড়িয়ে থাকার ছবি এবং হামিদুল ইসলামের সঙ্গে হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুই আসামি জিহাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লাও এলাকায় সাবেক এমপি আনারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মারধর, চাঁদাবাজি এবং চুরি-ডাকাতির নানা অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম বলেন, তিনি মাসুম নামের ওই ব্যক্তিকে চেনেন না। নির্বাচনের প্রচারণার সময় কে কখন এসে হাত মেলায়, তা মনে রাখা সম্ভব নয়। অভিযুক্তদের কেউ বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কমিটিতে নেই এবং তারা দলের কেউ নন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin