Facebook Twitter Instagram YouTube

মাতারবাড়ীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বসাতে চীনা কোম্পানিকে অনুমোদন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ /
মাতারবাড়ীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বসাতে চীনা কোম্পানিকে অনুমোদন

মাতারবাড়ীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের কাজ পেতে যাচ্ছে চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই)। চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির আওতায় জিটুজি পদ্ধতিতে এই টার্মিনাল বসানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জ্বালানি বিভাগের প্রস্তাব মঙ্গলবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন লাভ করেছে।

মাতারবাড়ীতে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ কার্যকর রয়েছে, যার একটি সামিট গ্রুপের এবং অন্যটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট নিরসনে জ্বালানি বিভাগ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করে আসছিল। এই প্রক্রিয়ায় ইতিপূর্বে সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হলেও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে সৌদি কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও গত মার্চ মাসে তা স্থগিত করা হয়। এরপর গত মাসে জ্বালানি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সৌদি আরবসহ ১২টি দেশ ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাব আহ্বান করে, তবে সেই প্রক্রিয়াটি মাঝপথে আটকে যায়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই সিএনইই তাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে জ্বালানি বিভাগে প্রস্তাব জমা দেয়। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা ২২ মাসের মধ্যে টার্মিনালটি স্থাপন করতে সক্ষম। তবে তাদের কাছে বর্তমানে কোনো ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউ জাহাজ প্রস্তুত নেই, যা তৈরি করতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন। সিএনইই কোনো ধরনের দরপত্র বা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে জিটুজি ভিত্তিতে এই কাজ সম্পন্ন করতে আগ্রহী।

সোমবার সিএনইইর প্রতিনিধিদল প্রস্তাবটি উপস্থাপনের পর ঢাকায় চীনা দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিভাগ জ্বালানি বিভাগকে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে সিএনইইকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে জ্বালানি খাতের অবকাঠামো নির্মাণে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং চীন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর ৯৯(২) ও ১০৭(২) বিধি অনুযায়ী জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভায় সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছিল। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৪৫ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে সেখান থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশে দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সেটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে অপর টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে তীব্র গ্যাস সংকটের সৃষ্টি করেছে। ২১ জুলাইয়ের আগে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১৩ কোটি ঘনফুটে। ১ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরাসরি ক্রয়নীতিমালার আওতায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার ২০টি প্রস্তাব প্রত্যাখান করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor