
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘অ্যাটমিক টেকনোলজিস লাইসেন্সড ফর অ্যাপ্লিকেশন্স অব সি (এটলাস) মন্ত্রী পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বিশেষ করে স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। প্যারিস চুক্তির গ্লোবাল স্টকটেকের ফলাফলে পারমাণবিক শক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পারমাণবিক সক্ষমতা তিনগুণ করার উদ্যোগকে বাংলাদেশ সমর্থন করে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। তিনি দেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব পারমাণবিক শক্তি পরিবারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে গর্বের সাথে উল্লেখ করেন।
পারমাণবিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সেফগার্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ উন্নত এসএমআর প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, এটলাস উদ্যোগের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে বেসামরিক পারমাণবিক সামুদ্রিক শিল্পের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :