Facebook Twitter Instagram YouTube

বেগমগঞ্জে ২২ দিনে ১১ জন গুলিবিদ্ধ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চরম উদ্বেগ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৭, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ /
বেগমগঞ্জে ২২ দিনে ১১ জন গুলিবিদ্ধ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চরম উদ্বেগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে ৬টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাসহ অন্তত ১১ জন সাধারণ নাগরিক। চট্টগ্রাম বা খুলনার মতো বড় শহরগুলোর অপরাধ চক্রের গোলাগুলি সংবাদমাধ্যমে যেভাবে গুরুত্ব পায়, বেগমগঞ্জের মতো এলাকার এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সেভাবে আলোচনায় আসছে না। অথচ এখানকার আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সবসময়ই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদল হলেও এই অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থামে না; বরং তারা সুবিধাজনক নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। পেশাদার এই সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে মুখোশ পরে হামলা চালাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করছে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, একের পর এক এমন অপরাধের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একজন অস্ত্রধারীকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি এবং কোনো অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো যদি অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বেগমগঞ্জের চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অবিলম্বে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে, অপরাধীদের দমনে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করে দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। পুলিশ প্রশাসন যদি কেবল আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে বেগমগঞ্জসহ নোয়াখালীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে এখনই ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo