
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ছয়জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। এদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অন্যতম। বাকি পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা, যারা বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসাধীন। এছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ভোট দেননি। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তিনি ভোট দিতে পারেননি। উল্লেখ্য, বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি ভোটার তালিকায় ছিলেন না।
নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান আগে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, তাদের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট দেবেন না। তবে পরে জানা যায়, তিনি ভোট দিয়েছেন।
ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা এই নির্বাচনকে 'অর্থহীন এবং প্রহসন' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, তিনি মনে করেন এই নির্বাচনে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না এবং ফলাফল সবার আগে থেকেই জানা ছিল, তাই একে নির্বাচন না বলে মনোনয়ন বলাই শ্রেয়। দ্বিতীয়ত, একটি বড় গণ-অভ্যুত্থানের পর অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে না পাওয়ায় তিনি হতাশ। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তিনি বিএনপির কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?'
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে নির্বাচিত কোনো সদস্য যদি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেন বা দলত্যাগ করেন, তবে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। তবে পদ শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।
আপনার মতামত লিখুন :