Facebook Twitter Instagram YouTube

ছাত্রলীগের মিছিলে গিয়েছিলাম ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে: ছাত্রদল নেতা তোফায়েল


প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ /
ছাত্রলীগের মিছিলে গিয়েছিলাম ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে: ছাত্রদল নেতা তোফায়েল

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ওই পদ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট জাককানইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং মারুফ হাসানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে, যেখানে তোফায়েল আহমেদ ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন।

সমালোচকরা দাবি করছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তোফায়েল ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। এর পাশাপাশি, একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিন উদ্দিন তোফায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ দাবির অভিযোগ এনেছেন। তবে তোফায়েল আহমেদ এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “ওই সময় আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগ ছিল। ক্যাম্পাস ও হলের পরিবেশ এমন ছিল যে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেককেই কৌশলে চলতে হতো। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ছাত্রত্ব চলে গেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেত। তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে এমনকি ২০২৪ সালের আগেও তিনি ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন এবং এর প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। তোফায়েল জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এরপরও যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে বর্তমান কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এতে চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হাসান (মামুন সরকার)কে সদস্য সচিব করা হয়। একই কমিটিতে তোফায়েল আহমেদ ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।