
সম্প্রতি সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত মাসে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল তা এখন আর কার্যকর নেই। শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং তাতে ওয়াশিংটন সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি এখন আর বিদ্যমান নয়।
ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনো অনুরোধ তারা করেনি। বরং ইরান কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করলে তেহরানও তার সমানুপাতিক জবাব দেবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমান সফরে যাচ্ছেন। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে, এই সফরে তিনি নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়, যার ফলে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে ট্রাম্পের ওপর সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা চালায়, তবে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ইরানের সব অঞ্চল ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :