Facebook Twitter Instagram YouTube

তারাগঞ্জে যমুনেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ /
তারাগঞ্জে যমুনেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী নদীর পানি হঠাৎ করেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ভাঙন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টায় তারাগঞ্জের বারাতি পয়েন্টে পরিমাপ করা তথ্যানুযায়ী, যমুনেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৬৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা নির্ধারিত আছে ৩৪ দশমিক ৫৩ মিটার। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যমুনেশ্বরী নদী সাধারণত বিপৎসীমা অতিক্রম করে না, তাই পানির এমন আকস্মিক বৃদ্ধি তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অনেক প্রবীণ বাসিন্দা জানিয়েছেন, নদীর এমন রূপ তারা আগে কখনো দেখেননি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা থেকে উৎপত্তি হওয়া যমুনেশ্বরী নদী জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ হয়ে পীরগঞ্জের করতোয়া নদীতে গিয়ে মিশেছে। এটি একটি দেশীয় নদী হওয়ায় সাধারণত উজানের ঢল থাকে না এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করার ঘটনাও বিরল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ধারণা, ডোমার ও ডিমলাসহ উজানের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে এসে যমুনেশ্বরীর পানি বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মোজাফফর হোসেন ও সমাজ উন্নয়নকর্মী হরলাল রায় বলেন, বর্ষাকালে পানি বাড়লেও যমুনেশ্বরী নদী কখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এমন ঘটনা আগে কখনো শোনেননি। এদিকে, রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ডালিয়ায় ২২ মিলিমিটার, কাউনিয়ায় ১৮ মিলিমিটার এবং রংপুরে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টির কারণেই নদীর পানি বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বৃষ্টি কমে এলে দ্রুতই পানির স্তর আবার নেমে যাবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh