Facebook Twitter Instagram YouTube

আজ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ: কোথায় দেখা যাবে, বাংলাদেশে কি দৃশ্যমান?


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১২, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ /
আজ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ: কোথায় দেখা যাবে, বাংলাদেশে কি দৃশ্যমান?

পশ্চিম ইউরোপের আকাশে আজ বুধবার বছরের সবচেয়ে আলোচিত মহাজাগতিক দৃশ্য—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ১৯৯৯ সালের পর এই অঞ্চলে এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ। চাঁদের প্রচ্ছায়া এবার উত্তর সাইবেরিয়া, আর্কটিক মহাসাগর এবং পূর্ব গ্রিনল্যান্ড পেরিয়ে পশ্চিম আইসল্যান্ড ও উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে যাবে। এরপর উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ ছুঁয়ে স্পেনের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ও বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে এই মহাজাগতিক ঘটনাটি শেষ হবে।

সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে আসে, তখন চাঁদের ছায়ার ঠিক কেন্দ্রভাগের ঘন অন্ধকার অংশটিই হলো প্রচ্ছায়া। পৃথিবীর যে অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই প্রচ্ছায়া অতিক্রম করে, সেখানকার মানুষই শুধু পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। আইসল্যান্ডের পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর এবার সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব হবে সবচেয়ে বেশি। আইসল্যান্ডের রাজধানী রিকজাভিক থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৫টা ৪৮) এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণ স্পষ্ট দেখা যাবে।

অন্যদিকে স্পেনের উত্তরের শহর ‘আ করুনিয়া’ ও ‘বিলবাও’সহ কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে। উত্তর-পশ্চিম স্পেনে স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টা ২৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৮টা ২৮) এ দৃশ্য তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাসহ ইউরোপের বাকি বেশির ভাগ অঞ্চলের বাসিন্দারা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন।

চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার না হয়ে উপবৃত্তাকার হওয়ায় পৃথিবী থেকে এর দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর খুব কাছে থাকে, তখন তা সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়, যাকে পূর্ণগ্রাস বলা হয়। এ সময় দিনের আলো নিমেষেই অন্ধকারে রূপ নেয়, তাপমাত্রা কমে যায় এবং উজ্জ্বল তারাগুলো দৃশ্যমান হতে পারে। এ সময় পর্যবেক্ষকেরা খালি চোখেই সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’ দেখার সুযোগ পান। অন্যদিকে, চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে থাকলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আলোর বলয় তৈরি হয়, যাকে বলয়গ্রাস বা ‘রিং অব ফায়ার’ বলা হয়। তবে চোখের সুরক্ষার জন্য বিশেষ সৌর চশমা বা সোলার গ্লাস পরা বাধ্যতামূলক, কারণ সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

পূর্ণগ্রাসের সংকীর্ণ পথ বা ‘পাথ অব টোটিলিটি’র বাইরে উত্তর গোলার্ধের বিশাল এলাকাজুড়ে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালিসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের মানুষ সূর্যাস্তের আগে এ দৃশ্য উপভোগ করবেন। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকাতেও গভীর আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রে কানাডার উত্তর ও পূর্ব অংশ, আলাস্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশে এই মহাজাগতিক দৃশ্য কোথাও দেখা যাবে না। ভারতের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি; ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত আনুমানিক ৯টা ৪ মিনিটে যখন গ্রহণ শুরু হবে, তখন সেখানে সূর্য দিগন্তরেখার নিচে অবস্থান করবে। ফলে আকাশপ্রেমীরা নাসা ও ইউরোপীয় মহাকশ সংস্থা ইএসএ-এর সরাসরি অনলাইন সম্প্রচারের মাধ্যমে এটি দেখতে পারবেন।

ভবিষ্যৎ সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে, ২০৩০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ও ২০৩৫ সালে জাপানে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্যে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে ২০৯০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফ্রান্সে ২০৮১ সালে এবং জার্মানিতে পরবর্তী শতাব্দী আসার আগে কোনো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সম্ভাবনা নেই। উত্তর আমেরিকায় ২০৪৪ সালে এবং ২০৪৫ সালে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ফিরে আসবে। এছাড়া ২০২৬ সালের এই ঘটনাটি স্পেনের আকাশে পরপর তিনটি সূর্যগ্রহণের প্রথম ধাপ; এর পরেরটি ২০২৭ সালের ২ আগস্ট এবং ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি স্পেনে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ২০২৮ সালের পর আগামী বেশ কয়েক বছর ইউরোপের আর কোথাও কোনো বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo