Facebook Twitter Instagram YouTube

তরুণরাই দেশের সমৃদ্ধি ও পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১২, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ /
তরুণরাই দেশের সমৃদ্ধি ও পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি

যৌবন মানেই শক্তি আর তারুণ্য মানেই অপার সম্ভাবনা। একটি দেশের বর্তমানকে গতিশীল এবং ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের সৃজনশীলতা, সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মক্ষমতা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই গুরুত্বকে বিবেচনা করেই প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি তরুণদের অধিকার, সমস্যা ও সমাজে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সাল থেকে এটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তরুণরা দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা তাদের অনন্য করে তোলে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে তরুণরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছে। এছাড়া সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা ও খেলাধুলায় তাদের সাফল্য দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি তরুণদের সামনে রয়েছে বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের মধ্যে দক্ষতার ঘাটতি, মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং এবং অনলাইন আসক্তির মতো বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ভুল তথ্যের প্রভাব তাদের জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি তরুণদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া জরুরি।

রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সমাজ পরিবর্তনেও তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মধ্যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করা প্রয়োজন।

পরিশেষে, তরুণরা দেশের বোঝা নয়, বরং সবচেয়ে বড় সম্পদ। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও নেতৃত্বের আসনে বসবে। তাই তাদের স্বপ্ন দেখার ও বাস্তবায়নের পথ তৈরি করে দেওয়া রাষ্ট্র ও পরিবারের নৈতিক দায়িত্ব। সঠিক শিক্ষা ও সুযোগের মাধ্যমে তরুণরাই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh