Facebook Twitter Instagram YouTube

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের ৬২ শতাংশই সচ্ছল


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১২, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ /
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের ৬২ শতাংশই সচ্ছল

দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও এর সুফল প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৬৭ দশমিক ১ শতাংশই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে ছিলেন। উল্টোদিকে, যারা এই সুবিধা পাচ্ছেন তাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশই সচ্ছল বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নন। ফলে সরকারি বরাদ্দের একটি বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তিদের পকেটে যাচ্ছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো- নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে এই বৈষম্যমূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। জিইডির সদস্য ড. মনজুর হোসেন এবং উপপ্রধান মোহাম্মদ ফাহিম আফসান চৌধুরী প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দারিদ্র্যকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের ব্যয় জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় ব্যয় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বর্তমানে দেশে ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি ছোট কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দের মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যয় হয়। কর্মসূচির এই ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি, সমন্বয়হীনতা এবং নজরদারির অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিধবা ভাতা কর্মসূচিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ পড়ার হার ৮৫ শতাংশ। এছাড়া শহরাঞ্চলে মাত্র ২৩টি কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মোট সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ের মাত্র ৪ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি অনুষ্ঠানে জানান, ৯০টিরও বেশি কর্মসূচি কমিয়ে ১০টির নিচে আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সর্বজনীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার কাজ চলছে। এছাড়া বড় ধরনের চিকিৎসাজনিত ব্যয় থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুরক্ষার ‘হেলথ প্রটেকশন ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা খাতের ‘সিস্টেম লস’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুল শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তিনি শিক্ষক সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে জানান, প্রায় ৩৮ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই এবং স্কুল-কলেজে প্রায় ৭৭ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসডিজি অর্জনে শুধু ওষুধ নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে মাঝারি দারিদ্র্য বেড়ে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্য ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠেছে। অর্থাৎ দারিদ্র্যের চাপ বাড়ার সময়ে দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor