
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মুরসালিন নামে বিয়ানীবাজার থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবল। এই ঘটনার পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে। তবে মোটরসাইকেলের মালিক মামলা করতে রাজি না হওয়ায় কনস্টেবল মুরসালিনকে আদালতে পাঠানো হয়নি। বর্তমানে তিনি গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুর রহমান ফেসবুকে তার মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে মুরসালিন ও ওলিউর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি দেখতে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন। মোটরসাইকেলটি দেখার পর মুরসালিন সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
পরে স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেলটির পিছু নেন এবং একপর্যায়ে হাজীপুর এলাকায় তাকে আটক করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে মারধর করেন। পরে মুরসালিন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পর মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার আচরণ ও কথাবার্তা স্বাভাবিক মনে হয়নি।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:ছবেদ আলী জানান, মুরসালিন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ছুটিতে বাড়ি যান এবং গত ১৬ আগস্ট তার ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।
ওসি আরও বলেন, মুরসালিনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই হেতিমগঞ্জ বাজারে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেল চালিয়ে দেখার সময় স্থানীয়রা তাকে ভুল বুঝে চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, মোটরসাইকেলের মালিক সাইদুর রহমান এ ঘটনায় কোনো মামলা করতে রাজি হননি এবং লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি মামলা করবেন না। এ কারণে তাকে আদালতে পাঠানো হয়নি।
তবে ওসি ছবেদ আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং মুরসালিনের কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির জানিয়েছেন, মুরসালিন বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকলেও ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মুরসালিনকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :